বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের। যুুক্তরাষ্ট্রে অপ্রত্যাশিতভাবে মজুদ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মুদ্রবাজারে ডলারের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে পণ্যটির দরপতন হয়েছে বলে অভিমত বাজার সংশ্লিষ্টদের। খবর বিজনেস লাইন।

জুলাইয়ে সরবরাহের চুক্তিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৬৬ ডলার ৩০ সেন্ট, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ কম। একই সময় জুনে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৩ ডলার ৩৮ সেন্ট, যা আগের দিনের চেয়ে দশমিক ৪৬ শতাংশ কম।

আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই) জানিয়েছে, ৯ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ ৪২ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। যদিও দেশটিতে জ্বালানি তেলের মজুদ অন্তত ২০ লাখ ব্যারেল কমবে বলে ধারণা করছিলেন বাজার বিশ্লেষকরা।

বাজার পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যমতে, এভাবে মজুদ বেড়ে যাওয়ার অর্থ হলো বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমেছে অথবা উত্তোলন বেড়েছে। এখন বাজারের দৃষ্টি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সরকারি তথ্যের দিকে, যা গতকাল রাতেই প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি হ্রাস ও মুদ্রাবাজারে ডলারের বিনিময় হারে পতনও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির হার কমে ২ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মার্চে ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। পূর্বাভাস অনুযায়ী এপ্রিলেও ২ দশমিক ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা ছিল।

আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান আইএনজি থিংকের বিশ্লেষক ওয়ারেন প্যাটারসন ও ইভা মানথে জানান, মঙ্গলবার ব্রেন্টের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে এপ্রিলের শেষ দিকের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল। এর পেছনে ডলারের দুর্বলতা ও ইরানকে ঘিরে নতুন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা বড় ভূমিকা রেখেছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ মঙ্গলবার এমন এক নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যারা চীনে ইরানি জ্বালানি তেল রফতানির সঙ্গে যুক্ত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক চুক্তিতে অগ্রগতি না ঘটায়, তাহলে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জ্বালানি তেল রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হওয়া সম্ভব না হলেও বড় ধরনের হ্রাস ঘটতে পারে। বর্তমানে দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রফতানি করছে। তবে ২০১৯ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সময় এ পরিমাণ নেমে গিয়েছিল ছয় লাখ ব্যারেলে।

ইরানের রফতানি কমে গেলে ওপেক প্লাস ভুক্ত অন্য দেশগুলো তাদের উৎপাদন বাড়াতে পারে। সংগঠনটি আগামী ১ জুন তাদের জুলাইয়ের উৎপাদন পরিকল্পনা ঘোষণা করবে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেলের দাম কম দেখতে চান। বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম যদি খুব বেশি কমে যায়, তবে মার্কিন জ্বালানি তেল উত্তোলন খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

আরও